উনিশ শতকের গোড়ার দিকে চাইনিজরা কোলকাতায় আসার পর থেকে এই Tiretti/Tiretta Bazar সংলগ্ন এলাকায় বসবাস শুরু করে। জায়গাটি একেবারে মধ্য কোলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। পরবর্তীকালে অনেকে তাদের বসতি আস্তে আস্তে ট্যাংরাতে নিয়ে যায় এবং ওখানে তারা ট্যানারি গোডাউন, সস্ ফ্যাক্টরি এবং চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট তৈরী করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
১৮ শতকে এই পুরো অঞ্চলের মালিকানা ছিল ভেনিসের (ইতালী) অধিবাসী এডওয়ার্ড টিরেটার (Edward Tiretta)। তার নামেই এই বাজারের নাম হয়েছে Tiretti/Tiretta Bazar। বাংলায় কেউ বলেন ‘তিরেত্তি বাজার’ কেউবা ‘টিরেটি বাজার’। বর্তমানে ‘ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচ’ তালিকায় কোলকাতার প্রথম এই চায়না টাউনের নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে।
আজকাল ব্যস্ত কোলকাতা মহানগরীতে Tiretti Bazar-এর আলাদাভাবে কোনো বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে একটু ঘুরাঘুরি করলে আশেপাশে কিছু মন্দির বা চার্চ পাওয়া যাবে যেগুলো চাইনিজরা নিজেদের প্রয়োজনে বানিয়েছে। এলাকার লোকজন ‘চাইনিজ কালী মন্দির’ বা ‘চাইনিজ চার্চ’ বলেই চেনে।

আসলে চাইনিজদের দ্বারা তৈরী বলে মন্দির বা চার্চের নামকরণ এমনভাবে হয়েছে। আমরা জানি, মূল চায়নার প্রায় ৯৬ শতাংশ মানুষ কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক ধর্মমতে বিশ্বাস করেনা। তারা তাদের নিজেদের স্থানীয় ঐতিহ্যগত রীতি-নীতিকেই একমাত্র মান্যতা দেয়। তবে কোলকাতায় বহু বছর ধরে থাকার কারণে এখানকার স্থানীয় আচার-বিশ্বাসের সাথে জুড়ে তাদের এক ধরণের বিশ্বাস তৈরী হয়েছে বলে ধারণা করা যায়।
Tiretti Bazar মূলত একটি রাস্তার দুইধারের স্ট্রীট মার্কেট। এখানে যেমন সব্জী, মাছ, মাংস ইত্যাদি বিক্রী হচ্ছে তেমনি আবার নানা ধরণের চাইনিজ স্ট্রীট ফুড পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে আছে চিকের ওয়ানটন, চিকেন মোমো, নানা ধরণের ফিশ ডাম্পলিং, পর্ক ওয়ানটন, পর্ক মোমো, চিকেন ষ্টীম বান, পর্ক ষ্টীম বান, ফ্রাই ডো ইত্যাদি নানা রকমের স্ট্রীট ফুড।

আশেপাশে চাইনিজদের অনেকগুলো সস্-এর দোকান আছে। সস্তায় সস্ কিনতে চাইলে এখান থেকে কেনা যেতে পারে। এই রাস্তার উপরে Pou Hing নামে একটি সস্ -এর ষ্টোর আছে। সেখান থেকেও কেনা যতে পারে। তাদের ফ্যাক্টরী ট্যাংরা তে। এছাড়াও ট্যাংরাতে চাইনীজদের এমন আরো অনেকগুলো সস্ ফ্যাক্টরী আছে।
রাস্তার ধারের এই খাবারের দোকানগুলো এখন চাইনিজরা সেভাবে আর করে না। মূলত স্থানীয়রাই রেসিপিগুলো তৈরী করে নিজেদের মত করে বিক্রী করে। এখানে খাবার খেতে গেলে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে যেতে হবে। এই সময় পর্যন্তই এই স্ট্রীট মার্কেট খোলা থাকে। তবে সবচেয়ে ভালো দিন হচ্ছে রবিবার। এদিন তাদের রেসিপির ধরণ এবং পরিমাণ অনেক বেশি থাকে; আর প্রায় ১০-১০:৩০ টা পর্যন্ত খাবার পাওয়া যায়। তবে গরম গরম খাবার খেতে চাইলে ৯টার আগেই চলে যেতে হবে।
সকাল সকাল যেতে গেলে মেট্রো পাওয়া যাবে না। তবে প্রথম মেট্রো ধরতে পারলে হয়তো সময়মত সেন্ট্রাল মেট্রো ষ্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যাবে। রোববারে যেতে চাইলে একটু খবর নিয়ে নিতে হবে মেট্রো কয়টা থেকে শুরু হবে সেদিন। যাহোক্, সেন্ট্রালে পৌঁছে Google-এর স্ট্রীট ম্যাপ ধরে হেঁটে গেলে মোটামুটি লালবাজার পর্যন্ত চলে গেলে খুব সহজেই চলে যাওয়া যাবে Old China Market।
বাহ্ খুব ভালো লাগলো। আমার ও যাওয়ার সৌভাগ্যে হয়েছিল এক বার …. বেশ ভালো লেগছিলো।
খুব ভাল লাগলো। বিস্তারিত জানানোর জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ