Natural Disaster - Kedarnath - The Bengali Travelogue Natural Disaster - Kedarnath - The Bengali Travelogue
  • admin
  • 30 January, 2021
  • 0 Comments

Natural Disaster – Kedarnath

কেদারনাথের ভয়ঙ্করতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়: ২০১৩

 

আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত ভারতবর্ষের বারো জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম কেদারনাথ এবং ছোটো চার ধামের (গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ) মধ্যে প্রধানতম ধাম। এর পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক কথন কমবেশী আমাদের সকলেরই জানা।

২০১৩ সালে ইতিহাসের এক ভয়ঙ্করতম বন্যায় ভেসে যায় পাহাড়ের কোলে মনুষ্যসৃষ্ট কেদারনাথের সমস্ত স্থাপনা। প্রকৃতি এই ভূমিতে তার নিজ অধিকার ফিরিয়ে নেয় স্বমহিমায়। কিছুই অবশিষ্ঠ ছিল না শুধুমাত্র মন্দিরটি ছাড়া। কোন্‌ মিরাকল বা ঐশ্বরিক শক্তির বলে এমন বিরল ঘটনা ঘটল সেটাই এই লেখার মূল বক্তব্য।

২০১৩ সালে বর্ষা অনেকটা তাড়াতাড়ি চলে এসেছিল। জুন মাসে আরব সাগর এবং বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপে সৃষ্ট ভারী বর্ষণের (৩০০মি.মি. থেকে ৫০০মি.মি.) কারণে এবং পর্বত গাত্রে গ্লেসিয়ার বিস্ফোরিত হয়ে বরফ গলনের ফলে এই ব্যাপক Flash Flood হয়। দিল্লী, পুণে এই ধরণের শহরগুলোতে পুরো বছরে হয়তো প্রায় ৮০০মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়; সেখানে ১৫ থেকে ১৭ জুন’১৩ পর্যন্ত প্রায় ২/৩দিনে এই পুরো এলাকায় সারা বছরের মোট পরিমাণের প্রায় ৬০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়। Flash Flood-এর প্রাথমিক কারন ছিল এই ভারী বর্ষণ – এই বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই কারো।

Visit this Google link to see the pics

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। কেদারনাথ থেকে আরো একটু উপরে উঠলে মোটামুটি ৩.৫ কি.মি ট্র্যাকে হাঁটলে পৌঁছে যাওয়া যায় ‘চোরাবারি তাল’ বা ‘চোরাবারি লেক’ বা ‘গান্ধী সরোবর’। ভারী বর্ষণের কারণে উপচে পড়ার মত অবস্থায় ছিল এই লেক। সেই সাথে প্রচণ্ড বর্ষণে পর্বত গাত্র ধ্বসে আটকে যায় জলের প্রবাহ। ওইদিকেই কোনো এক স্থানে ঘটে যায় Cloud Burst বা মেঘের বিস্ফোরণ। একদিকে ভারী বর্ষণের ফলে উপচে পড়া ‘চোরাবারি লেক’ আর অন্যদিকে এই বিস্ফোরণের ধাক্কা – সামলে উঠতে পারে না হিমালয়ের এই পাহাড়ি উপত্যকা। সেই প্রবল ধাক্কায় ফাটল ধরে পর্বত গাত্রের গ্লেসিয়ারেও। সেটাও বিস্ফোরিত হয়; ব্যাপক ভাবে বরফ গলতে শুরু করে। এই সবকিছু এক সাথে landslide-এর ফলে আটকে যাওয়া পাহাড়ি মুখে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি করে। অত:পর মেঘের বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে বেরিয়ে আসা বড় বড় পাথর নিয়ে এই প্রবল স্রোত এসে আছড়ে পড়ে নীচে – কেদারনাথ ধামে; অত:পর আরো নীচে গৌরিকুণ্ড পর্যন্ত ভেসে যায় সবকিছু।

কত লোক মারা যায় তার কোনো সঠিক হিসাব আজও পর্যন্ত পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয় প্রায় ১লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল ইতিহাসের এই ভয়ঙ্করতম Flash Flood-এ। আর এই প্রবল জলের তোড়ে রূপবতী মন্দাকিনী নদী তার ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। শোনা যায়, জলের গন্ধও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। সম্ভবত: ভুত্বকের সাথে মিশে থাকা বায়ো কেমিক্যাল দ্রব্য মিশে গিয়েছিল জলের সাথে। তার ফলে সেই জলের মধ্যে জীবপ্রাণের বেঁচে থাকাটা দু:সহ হয়ে গিয়েছিল।

পুরো কেদারনাথের চেহারা পাল্টে যায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই প্রলয়ংকরী বন্যায়। কিছুই অবশিষ্ট থাকে না সেখানে শুধু মন্দিরটি ছাড়া। সকল ধরণের স্থাপত্য, লোহার ব্যারিকেড মুহুর্তেই ধুলিসাৎ হয়ে যায় জলের প্রবল তোড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত কিছুর পরেও মন্দিরটি কীভাবে বেঁচে থাকলো। কেউ কেউ হয়তো বলবে মিরাকল, আবার কেউ কেউ বলবে ঐশ্বরিক; কিন্তু যাই হোক না কেন, মন্দিরটি কিন্তু বেঁচে গেছে। তার গাত্রে একটি আঁচড় অবধি পড়ে নি। আপনারা যারা যাবেন কেদারধামে, অবশ্যই দেখতে পাবেন মন্দিরের ঠিক পিছনে একটি বিরাটাকায় পাথর আটকে আছে। যদিও এতবছর ধরে নানারকম Renovation-এর পর এখন সামনে থেকে দেখলে হয়তো মনে হবে পাথরটি ওখানে তুলে রাখা হয়েছে। তবে ‘চোরাবারি তাল’-এর পথে যেতে থাকলে নীচের দিকে তাকালে বোঝা যায় যে, Flash Flood-এর সময় এই পাথরটি একেবারে ঠিক মাপমতো মন্দিরের পিছনে এসে আটকে যায়। আর সেই কারণে মন্দিরের পিছন থেকে ধেয়ে আসা প্রকাণ্ড জলের ধারা সেই পাথরে আছড়ে পড়ে দু ভাগে ভাগ হয়ে মন্দিরের দুই পাশ দিয়ে বয়ে যায় মন্দিরকে অক্ষত রেখে। এটা মিরাকল নয় তো কি!!

Visit this Google link to see the pics

লোকে এই প্রস্তরখণ্ডটিকে ‘ভীম শিলা’ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। আপনারা নিশ্চয়ই জানবেন, পুরাণ কথা অনুসারে মহাভারতের পাণ্ডবপুত্র ভীম মহাদেবকে এই স্থানে অধিষ্ঠিত করেছিল। সেই ইতিহাস ধারাবাহিকতায় সেই প্রকাণ্ড প্রস্তরখণ্ডের সাথে ভীমের প্রকাণ্ড শরীরের তুলনাপূর্বক বলা হয় যে, ভীমই ঢাল হয়ে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে মন্দিরকে রক্ষা করেছে। অনেকে কেদারনাথের সাথে সাথে সেই প্রস্তরখণ্ডটিকেও পূজো করে থাকেন।

সেই মহাদুর্যোগের পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মন্দির খুল্লেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্দির পুণরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরের বছর ৪মে পুণরায় পূণ্যার্থীদের আসার জন্য এই মন্দিরের পথ উন্মুক্ত হয়।

এখনও বাবা কেদারনাথ সকলের পূজো পান যাকে তিনি অনুমতি দেন তার কাছে যেতে।

 

কেদারনাথ নিয়ে অন্যান্য লেখা-

কেদারনাথের ইতিহাসকথা

কেদারনাথ ট্র্যাকে আমার অভিজ্ঞতা

কীভাবে যাবেন: গৌরিকুণ্ড হয়ে কেদারনাথ

শরৎকালে ভ্রমণার্থী/পূণ্যার্থীদের কেদারনাথ যাত্রা

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *