সেমেট্রি আসলে সেই কবরস্থান যেখানে চার্চ থাকে না। সাধারণভাবে এখানেও চার্চ নেই। বলা যেতে পারে, এই সেমেট্রিটি বিশ্বের প্রথমদিককার চার্চবিহীন বৃহৎ সেমেট্রিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮ শতক থেকে শুরু হয়ে ১৯ শতক পর্যন্ত ইউরোপ এবং আমেরিকার বাইরে সর্ববৃহৎ সেমেট্রি ছিল এটি। তখনকার দিনে খুব জলাকীর্ণ ছিল এই জায়গাটিতে প্রায় ১৯ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত সেমেট্রিটি ব্যবহার হয়েছে।
সেমেট্রি সম্পর্কে নানা জায়গায় ভুল-ঠিক মিলে নানা ধরণের তথ্য দেওয়া আছে। অনেক জায়গায় যেমন আছে এটি একটি হেরিটেজ সাইট এবং Archaeological Survey of India কর্তৃক সুরক্ষিত। কিন্তু হেরিটেজ হলেও এই তথ্যটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। যদিও ASI-এর পুরো তত্ত্বাবধানে থাকলে সেমেট্রিটি হয়তো আরো ভালো ভাবে সুরক্ষিত থাকত। মূলত ASI-এর রেগুলেশন মেনে এটির সম্পূর্ণ দেখভাল এবং পরিচালনার কাজটি করে “Christian Burial Board, Kolkata”।

সেমেট্রিতে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ২০ রূপির টিকিট নিতে হবে। উৎসবের দিন ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই সেমেট্রি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। মনে রাখতে হবে সেমেট্রিটি যেমন ধর্মীয় ভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেমনি উপরের ছবির Tomb আর্কিটেকচার গুলোর ঐতিহাসিক মূল্যও কম নয়। তাই এখানে কোনো ধরণের ভিডিও, অ্যাড ফিল্মিং, পোট্রেট ফটোগ্রাফি, ডকুমেন্টরি এন্ড প্রফেশনাল ফিল্মিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই ধরণের কোনো প্রয়োজনে অবশ্যই পূর্ব অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। Write an mail at christianburialboard@yahoo.co.in
সেমেট্রিতে যাওয়ার সহজ রাস্তা হচ্ছে দমদম-রবীন্দ্র সদন মেট্রো লাইনের পার্ক স্ট্রীট ষ্টপেজে নেমে ‘এশিয়াটিক সোসাইটি’র দিকের গেট দিয়ে বেরিয়ে সোজা পার্ক ষ্ট্রীটের রাস্তা ধরে হেঁটে Goethe Institute-এর মোড় ক্রস করে আর একটু সামনে এগিয়ে গেলে ঠিক ‘সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ’-এর পরে পরেই হাতের ডান ফুটে ঠিক রাস্তার উপরেই পড়বে।
পর্যটকরা যারা নিউমার্কেট এরিয়ার হোটেলগুলোতে থাকেন তাদের জন্য রাস্তাটি আরো সহজ। ‘মির্জা গালিব স্ট্রিট’ ধরে হাঁটতে হাঁটতে পার্ক স্ট্রীট Goethe Institute-এর মোড় থেকে বা দিকে আর একটু সামনে এগিয়ে গেলে ঠিক ‘সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ’-এর পরে পরেই হাতের ডান ফুটে ঠিক রাস্তার উপরেই পড়বে সেমেট্রিটি।
সেমেট্রিটি কোলকাতার পূর্ব ইতিহাসের একটি ঐতিহ্য বহন করে চলেছে সুদীর্ঘ কাল ধরে। এখনকার মত তখনকার দিনে এত সুযোগ সুবিধা ছিল না যে, কেউ মারা গেলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে তার মরদেহ নিজের দেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই সেই ইউরোপীয়দেরকে এই দেশের মাটিতেই চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়েছিল।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অন্য অনেক ইউরোপীয়দের মাঝে হেনরি লুইস ডিরোজিও (১৮ এপ্রিল ১৮০৯ – ২৬ ডিসেম্বর ১৮৩১) কেও এই সেমেট্রিতে শায়িত করা হয়েছিল। তার জন্ম কোলকাতার মাটিতে হলেও তাঁর বাবা ফ্রান্সিস ডিরোজিও ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা সোফিয়া জনসন ছিলেন ব্রিটিশ। তাকে ‘অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান’ বলা হলেও তিনি নিজেকে সর্বদা ভারতীয়-ই ভাবতেন।

ডিরোজিও-র এই কবরটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে “The All Indian Anglo-Indian Association”-এর কলকাতা শাখা। এছাড়া উপরের ছবিতে তাঁর এই মূর্তিটি ২০১৪ সালে “Derozio Commemoration Committee” স্থাপন করে। এছাড়াও এসপ্লানেড চত্বরে তাঁর অন্য একটি মূর্তি রয়েছে।