গোমুখ – ট্র্যাকারদের জন্য খুব পরিচিত একটি নাম। গোমুখ মানে গঙ্গার উৎসমুখ। হিমালয় থেকে গঙ্গা ঠিক যে পথ দিয়ে বেরিয়ে সাধারণে দৃশ্যমান সেই অংশকেই বলা হয় ‘গোমুখ’।
আর গঙ্গোত্রী সম্বন্ধে আমরা সবাই নিশ্চয়ই জানি। ছোটো চার ধামের এক ধাম গঙ্গোত্রী। অন্যগুলো হচ্ছে যমুনোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ। গঙ্গোত্রী আসতে গেলে গাড়ীতেই আসতে হবে অথবা বাসে। হরিদ্বার থেকে যদি সকাল ৬টা নাগাদ যাত্রা শুরু করা হয় তাহলে বিকাল ৪টার মধ্যে গঙ্গোত্রী পৌঁছে যাওয়া যাবে নিশ্চিন্তে।

গঙ্গোত্রী থেকে ভুজবাসা হয়ে গোমুখ প্রায় ১৯ কি.মি. পথ। পুরোটাই হাঁটা পথ অথবা চাইলে গঙ্গোত্রী থেকে ভুজবাসা পর্যন্ত ১৪ কি.মি. রাস্তা ঘোড়ায় যাওয়া যেতে পারে। যেহেতু গোমুখে তীর্থযাত্রীদের যাওয়ার কোনো ব্যাপার নেই সেহেতু গঙ্গোত্রী থেকে গোমুখ – এই রাস্তাটুকু ট্র্যাকাররা সাধারণত হেঁটেই যান। তারপর গোমুখ থেকে ‘নন্দনবন’ ও ‘তপোবন’ আরো ৭ কি.মি. উপরে। এই হাঁটা পথটা একটু দুর্গম।
গোমুখ এবং তপোবন যেতে গেলে প্রতিজনের আলাদা করে অনুমতি নিতে হয়। হরিদ্বার থেকে গঙ্গোত্রী আসার পথে উত্তর কাশী থেকে এই অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। ভাড়া গাড়ীতে আসলে ড্রাইভার নিজ দায়িত্বেই এই স্থানে নিয়ে আসবে। বাসের ক্ষেত্রেও তাই। হরিদ্বার থেকে গঙ্গোত্রী যাওয়ার প্রতিটি বাস এখানে এসে দাঁড়ায় সকল যাত্রীদের অনুমতি সংগ্রহ করতে। গোমুখ এবং তপোবন যেতে চাইলে এখান থেকেই অনুমতি পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এখানে কোনোরূপ টাকা দিতে হয়না। কিন্তু অবশ্যই আপনার অরিজিনাল পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। পাসপোর্ট (ভারতীয় ছাড়া বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য), আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি।
উত্তরাখণ্ডের গাঢ়োয়াল হিমালয়ে ভ্রমণ করতে গেলে আমার বরাবরের পছন্দ GMVN (Garhwal Mandal Vikas Nigam)। হরিদ্বার এবং ঋষিকেশে থাকার অনেক সুব্যবস্থা আছে। নিজের মনের মত হোটেল, রিসর্ট নানা কিছু খুঁজে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যখনই পুরোপুরি হিমালয়ের কোলে চলে যাওয়া যায় তখন GMVN-এর কোনো বিকল্প নেই।
গঙ্গোত্রীতে আপনি নিশ্চিন্তে GMVN বুক করতে পারেন। এখানে ওদের অনেকগুলো ডাবল বেড রুম আছে। নিজস্ব কিচেন আছে। এবং একদম প্রায় গঙ্গোত্রী ঢোকার মুখেই GMVN। ভারী লাগেজ নিয়ে খুব একটা ভিতরের দিকে যাওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।
এদের কিচেনে খাবারের কিছুটা verity পাওয়া যাবে। কিন্তু গঙ্গোত্রীতে non-veg not allowed। পুরো অঞ্চল এই একই নিয়মে চলে। যে কয়দিন হিমালয়ে থাকা হবে কোনো non-veg নয়, এমন মানসিক প্রস্তুতি অবশ্যই থাকতে হবে।
স্নান করতে চাইলে সকাল সকাল সেড়ে নিতে হবে। কারণ শুধু সকাল বেলাতেই গরম জল পাওয়া যাবে। গোমুখ যাওয়ার থাকলে ওখানেও GMVN বুক করা যেতে পারে। ওখানে আলাদা কোনো রুমের ব্যবস্থা নেই সবটাই dormitory। তবে পরিবার সাথে থাকলে ওরা নিজের মত করে মেনেজ করে দেয়। আর ওখানে রাত্রীযাপন করতে চাইলে GMVN ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমার ব্যক্তিগত মতামত অন্য কোথাও থাকা উচিৎও নয়।
এই হলো গঙ্গোত্রী থেকে গোমুখ যাত্রা শুরু করার মোটামুটি Tips। বাকীটা নিজ অভিজ্ঞতার উপর চলতে হবে।
Enjoy the trip।
অন্যান্য লেখা –
গঙ্গোত্রী-ভুজবাসা-গোমুখ ট্র্যাক: গঙ্গোত্রী থেকে ভুজবাসা
গঙ্গোত্রী-ভুজবাসা-গোমুখ ট্র্যাক: ভুজবাসা থেকে গোমুখ
গঙ্গোত্রী-ভুজবাসা-গোমুখ ট্র্যাকের অভিজ্ঞতা থেকে