Jagadhatri Pujo at Chandannagar - The Bengali Travelogue Jagadhatri Pujo at Chandannagar - The Bengali Travelogue
  • admin
  • 14 November, 2021
  • 0 Comments

Jagadhatri Pujo at Chandannagar

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজো

 

চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগর পশ্চিমবঙ্গের দুটি অতি পরিচিত শহর। পৃথিবীর সকল বাঙালীদের কাছে এই দুটি শহর নানাভাবে পরিচিত। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান দুটি পূজো হচ্ছে ‘দূর্গা’ পূজো এবং ‘কালী’ পূজো। সারা বাংলাতেই এই পূজো দুটো অত্যন্ত জাকজমকের সহিত পালিত হয়। তন্মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত শহরের ‘কালী’ পূজো নানা কারণেই ভারত বিখ্যাত।

এর পরেই বাঙালির অন্যতম পূজো হচ্ছে ‘জগদ্ধাত্রী’ পূজো। মূলত এই পূজো পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মধ্যেই বেশী প্রচলিত। তবে চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরেই মূলত বিশাল কলেবরে জগদ্ধাত্রী পূজোর সমারোহ দেখা যায়।

এর কারণ হিসেবে শোনা যায়, নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকালে নবাব আলিবর্দি খাঁ, তাঁর থেকে ১২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তা দিতে অস্বীকার করায় রাজাকে তাঁর প্রসাদে বন্দী করে রেখেছিল। তারপর রাজা বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে যখন নৌকাযোগে আসছেন তখন তিনি সেই বছরের মা দূর্গার বিসর্জনের ঘন্টা শুনতে পান। তাঁর মন খুব কেঁদে উঠে। মায়ের পূজোয় তিনি থাকতে পারলেন না এই ভেবে।

শোনা যায়, সেই রাতেই মা জগদ্ধাত্রী, মহারাজাকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে তাঁকে পুজোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে মা দুর্গার বিকল্প হিসেবে মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু হয় বাংলায়। পরবর্তীকালে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের অনুপ্ররণায় তৎকালীন ফরাসিদের দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী ফরাসডাঙ্গা অর্থাৎ আজকের চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পূজোর প্রচলন শুরু করে।

অন্যদিকে চন্দননগরে গেলে মায়ের পূজোর অন্য একটি লোককাহিনী শোনা যায়। মনসামঙ্গলের চাঁদ সওদাগর চন্দননগরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু কারণে তিনি এই স্থানে মায়ের পূজো করেন। সেই থেকে এই ঘাটে বা এই স্থলে দেবী জগদ্ধাত্রী পূজিত হন। এরকম নানা রকম কাহিনী প্রচলিত দেবী পূজোকে ঘিরে।

এবারে মা জগদ্ধাত্রীর আবির্ভাব বিষয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক্‌, পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দেবী দূর্গার মহিষাসুর বধের পর দেবতারা আনন্দ উৎসবে মত্ত ছিলেন। তাদের ভাবটা এমন ছিল যে, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করলেও তিনি যেহেতু সকল দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ, তাই তারা ভাবছিলেন মহিষাসুর বধের কৃতিত্ব তাঁদেরই। ব্রহ্মার বরের সম্মান রক্ষা করতেই কেবল ওই নারীদেহটির আবশ্যিকতা ছিল মাত্র।

দেবতাদের এমন আচরণ দেখে দেবী অন্তরালে থেকে একটা ঘাসের টুকরো নিক্ষেপ করলেন দেবতাদের দিকে। পরীক্ষা করতে চাইলেন তাঁদের শক্তি। দেবরাজ ইন্দ্র, অগ্নি, পবন ও বরুণদেব সকলেই যখন তাদের শক্তিবলে সেই টুকরোকে নষ্ট করতে ব্যর্থ এই সময় দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হন এক পরমাসুন্দরী সালঙ্কারা চতুর্ভুজা দেবীমূর্তি। তিনিই হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী।

নানা নামে তিনি পূজিতা হন। কখনো ‘হৈমন্তিকা’ কখনো বা ‘করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী’। উপনিষদে তাঁর নাম ‘উমা হৈমবতী’। কার্তিক, অগ্রহায়ণ এই দুই মাস হেমন্ত কাল। এই কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী ‘জগদ্ধাত্রী’ বা ‘হৈমন্তিকা’র বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবী জগদ্ধাত্রী যে দুর্গারই বিকল্প বা অন্যরূপ সেটি বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে তাঁর আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই বেশী প্রচলিত। মহাদেবী জগদ্ধাত্রী সিংহের স্কন্ধে আরূঢ়া। দেবীর বাম হস্তদ্বয়ে রয়েছে শঙ্খ ও শার্ঙ্গধনু এবং দক্ষিণ হস্তদ্বয়ে রয়েছে চক্র ও পঞ্চবাণ।

জগদ্ধাত্রী পূজো আচারের দুটি প্রথা বাংলায় প্রচলিত আছে। একটি একেবারে দূর্গা পূজোর নির্ঘন্ট (সপ্তমী থেকে দশমী) মেনে হয় অন্যটি শুধু নবমীর দিন তিনবার (সপ্তমী থেকে নবমী) পূজার আয়োজন হয়। সারা বাংলাতে দ্বিতীয় প্রথায় পূজো আচারের চল থাকলেও চন্দরনগরে প্রতিদিন পূজো তো হয়ই এবং নবমীর দিনেও তিনবার পূজোর আয়োজন করা হয়।

পূজোর সময় কোলকাতা এসে জগদ্ধাত্রী পূজোতে যাওয়া হবে না তাই কি হয়।  তবে একদিনে সবকিছু দেখা সম্ভব হবেনা। চন্দননগরের পূজো একদিনে দেখতে চাইলে কোন কোন পূজো দেখবেন এবং কীভাবে যাওয়া যাবে সেটা জানতে চাইলে কমেন্ট বক্সে লিখবেন। নিশ্চয়ই জানাবো। এবার তো আর হলো না।

আসছে বছর আবার হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *