কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য :
১. দিন পরিষ্কার থাকলে হাল্কা গরম কাপড় পড়ে যাত্রা শুরু করুন। না হলে একটু হাঁটতে শুরু করলেই গরম লাগবে – তখন অসুবিধায় পড়তে হবে। শুধুমাত্র একান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের একটি ছোট ব্যাকপ্যাক সাথে রাখবেন। বাকী সবকিছু গঙ্গোত্রী GMVN-এর clock room-এ রেখে যাবেন। It’s secure। No problem।
২. ব্যাকপ্যাক কেনার সময় অবশ্যই Trekking করার জন্য যে ব্যাকপ্যাক পাওয়া যায় সেগুলো কিনতে হবে। তাতে কিছু extra সুবিধা থাকে।
[উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে, এই ধরণের কিছু ব্যাকপ্যাকে জলের বোতলের সাথে একটা নল থাকে বাইরে প্রয়োজনমত জল পানের জন্য। অনেকে ভাবতে পারেন এই সুবিধা দিয়ে কি হবে – ব্যাগটা নামিয়েও তো জল পান করা যেতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা কোনো সমতল রাস্তায় হাঁটছি না। রীতিমতো পাহাড়ি এবড়োখেবড়ো চড়াই পথ। আপনি যতবার পিঠ থেকে ব্যাগ নামাবেন তত পরিমাণে আপনার ক্যালরি খরচ হবে। একটু পর গিয়ে আর পথ চলা যাবে না। আর অবশ্যই ব্যাগটা guaranteed water proof হতে হবে। তারপরেও অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ব্যাকপ্যাকের Extra Water proof কভার সাথে রাখবেন অন্তত দুটো। না হলে বৃষ্টি শুরু হলে ভিতরের সবকিছু শুকনো থাকার কোনো Guarantee থাকবে না।]
৩. অবশ্যই স্পোর্টস শ্যু পড়ে বেরোবেন এবং সাথে দুই/তিন জোড়া স্পেয়ার মোজা রাখবেন।
[বলে রাখা ভালো, পাহাড়ে চলার জন্য যেকোনো ধরণের স্পোর্টস শ্যু হলে চলবে না। কেনার সময় খেয়াল করতে হবে শ্যুটি যেন হাল্কা হয়; জলে ভিজলে যেন খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় এবং শ্যু-এর তলার spike গুলো যেন ভালো থাকে।]
৪. এই ট্র্যাকে ঝরণার সাথে কিছু জায়গায় পাইপ বসানো আছে। জলের প্রয়োজনে সেখান থেকে অবশ্যই জল পান করা যেতে পারে। তা না হলে একেবারে ‘চিরবাসা’ তে গিয়ে জল কেনার জায়গা আছে। সাথে অবশ্যই ১লিটার মত জল নিয়ে নেওয়া উচিৎ। আর যদি পোর্টার/ঘোড়া যায় সাথে তাহলে ২/৪ লিটার জল সাথে নিয়ে নেওয়াই ভালো।
৫. গঙ্গোত্রী থেকে ভুজবাসা আসার শুরু থেকেই প্রায় কোনো মোবাইলের কোনো সিগন্যাল থাকে না। কিছুটা পথ অবধি বি.এস.এন.এল-এর সিগন্যাল যদিও পাওয়া যায়, বাকী পথ কোথাও কোনো মোবাইলের সিগন্যাল থাকে না। এই অবস্থায় সাথে মোবাইল নিয়ে যাওয়াটাই একটা বিড়ম্বনা। বৃষ্টি কিংবা খারাপ আবহাওয়ার দরুণ বরং মোবাইল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। যারা ছবি তোলার জন্য মোবাইল ব্যবহার করেন তাদের ব্যাপারটা অবশ্য আলাদা।
কি কি জিনিস প্রয়োজন:
১. পাহাড়ে Trekking –এর প্রয়োজনে রেইন কোর্ট ১০০শত ভাগ জরুরী। প্রয়োজনে যাত্রার শুরুতেই হাল্কা গরম কাপড়ের উপর রেইন কোর্ট চাপিয়ে নিতে পারেন। তাতে ঠাণ্ডাটাও কম লাগবে এবং বৃষ্টি শুরু হলে সমস্যায় পড়তে হবেনা।
[অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে কাকতাড়ুয়ার মত এক ধরণের ‘ওভার রেইন কোর্ট’ পাওয়া যায়। সেটা সাথে থাকলে খুব ভালো।]

২. সাথে Trekking Stick রাখলে ভালো হয়। পথ চলতে সুবিধা। প্রয়োজনে নিজের সুবিধামত ছোটো বড় করে নেওয়া যায়। এবং কাজ শেষ হলে পুরোটা গুটিয়ে নিয়ে ব্যাকপ্যাকে ভরে ফেলা যায়।

৩. সাথে কিছু চকলেট, বিস্কুট, এনার্জি বার নিয়ে গেলে ভালো। পাহাড়ের চড়াই রাস্তা পেরোতে খুব কাজে দেয়।
৪. বলাই বাহুল্য যে, সাথে নিশ্চয়ই টর্চ লাইট রাখা উচিৎ।
[বিশেষত: ভুজবাসায় কিন্তু কোনো ইলেকট্রিসিটি নেই। আর পুরো ট্র্যাকে কোথাও কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। আর অবশ্যই ফুল চার্জ করে নিতে হবে। অন্তত দুই দিনের ব্যাকআপ।]
৫. অবশ্যই সাথে দুটো ফুল চার্জড পাওয়ার ব্যাংক (২০০০০ amp) রাখবেন যাতে খুব দ্রুত আপনার মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস চার্জ করে নেওয়া যেতে পারে।
অন্যান্য লেখা সমূহ –